আমি বীরাঙ্গনা বলছি
১৯৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত নীলিমা ইব্রাহিম কৃত আমি বীরাঙ্গনা বলছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নির্মম দলিল। এই দলিলে বিবৃত হয়েছে সমাজের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় থেকে উঠে আসা সাতজন বীরাঙ্গনা নারীর বয়ান। এসকল বীরাঙ্গনাদের কষ্ট যাত্রায় দর্জির মেয়ে আছেন, আছেন গ্রামের বিত্তশালী কৃষকের মেয়ে, আবার শহরের উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিবিদের মেয়েও আছেন। ভিন্ন ভিন্ন পারিবারিক অবস্থা থেকে উঠে আসা এই সাতজনের মাঝে সবচেয়ে বড় মিল এই যে, জীবন যুদ্ধে তারা কেউই পরাজিত নন। তদুপরি এটা অনস্বীকার্য যে, বীরাঙ্গনাগণ নির্যাতিত ও শোষিত হয়েছেন বারংবার: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে অধিকাংশ বাঙ্গালীর হাতে। উভয় ক্ষেত্রে নারী ব্যবহৃত হয়েছে: পাকিস্তানের যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের দ্যোতক রূপে।
দীর্য তিন মাস ব্যাপী মহড়া শেষে ‘স্পর্ধা: ইন্ডিপেন্ডেন্ট থিয়েটার কালেক্টিভ’ আমি বীরাঙ্গনা বলছি নামে যে প্রযোজনা উপস্থাপন করছে, তার পাঠ, অল্প কিছু শব্দ ব্যতীত, সম্পূর্ণভাবে নীলিমা ইব্রাহিত কৃত দলিলে বিবৃত সাতজন বীরাঙ্গনার বয়ান হতে আহরণ করা। এই প্রয়াসে সহযোগী শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাশে দাঁড়াবার কারণে আমি বীরাঙ্গনা বলছি বহুলাংশে ঋদ্ধ হয়েছে।